বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা। এতে প্রেসক্লাব ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ভোগান্তি।
সকাল হতেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে জড়ো হতে থাকেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকরা। একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে শুরু করেন বিক্ষোভ। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
অটোরিকশাচালকদের ভাষ্য, তাদের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন এই যান। আর সেটি সচল রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত চার্জ। কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সুযোগ। ফলে গাড়ি চালাতে না পেরে কার্যত থমকে গেছে তাদের আয়-রোজগার।
শুধু একদিনের আয় বন্ধ নয়, সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রভাব পড়েছে তাদের পুরো কর্মজীবনে। চালকদের অভিযোগ, আগাম কোনো সমাধানের সুযোগ না দিয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, দাবি আদায়ে প্রেসক্লাবের সামনে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন অটোরিকশাচালকরা। তাদের অবস্থানের কারণে ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ধীরে ধীরে এর প্রভাব পড়ে আশপাশের সড়কেও।
ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় তৈরি হয় যানজট। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীরা। একদিকে জীবিকা বন্ধ হওয়ার শঙ্কা, অন্যদিকে সড়কে দীর্ঘ যানজট - দুই দিক থেকেই চাপে পড়েন নগরবাসী।
তবে দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অটোরিকশাচালকরা। তাদের দাবি, দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদে অটোরিকশাচালকদের এই অবরোধে একদিকে যেমন তৈরি হয়েছে জনভোগান্তি, অন্যদিকে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চালকরা। এখন সংযোগ পুনঃস্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।