মাঠে ভালো ফলন, কিন্তু ঘরে তোলার পর পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে গিয়ে প্রতিবছরই বিপাকে পড়েন কৃষক। অতিরিক্ত আর্দ্রতা কিংবা বাতাস চলাচলের অভাবে পচন ধরে নষ্ট হয় বড় একটি অংশ। কৃষকের সেই ক্ষতি কমাতে এবার চুয়াডাঙ্গায় নেওয়া হয়েছে কার্যকর উদ্যোগ - পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এয়ার ফ্লো মেশিন।
সোমবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার ২০ জন কৃষকের হাতে এই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজ যাতে দীর্ঘসময় ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই সরকারের এই সহায়তা। আর এমন উদ্যোগে সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সঠিক সময়ে পেঁয়াজ বিক্রির সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিথি মিত্র। আর অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ। অনুষ্ঠানে কৃষকদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এর ব্যবহার ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি এয়ার ফ্লো মেশিনের মূল্য প্রায় ২১ হাজার টাকা। পাশাপাশি মেশিন স্থাপনের জন্য সংরক্ষণ ঘর তৈরিতে দেওয়া হবে আরও ৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ কৃষকের নিজস্ব খরচের চাপ কমিয়েই আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের।
শুধু মেশিন পেলেই হবে না, এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। একটি এয়ার ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব। ফলে অল্প পরিসরে নয়, কৃষকের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উৎপাদনও নিরাপদে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এতে পেঁয়াজের অপচয় কমার পাশাপাশি সংরক্ষণকাল বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সংরক্ষণের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পেঁয়াজ ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ, জমি থেকে তোলার পর পর্যাপ্ত সময় ধরে পেঁয়াজ শুকিয়ে নিতে হবে এবং সংরক্ষণ ঘরে যেন পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এয়ার ফ্লো মেশিনের সুফল পাওয়া সম্ভব।
ফসল ফলানোর পর তা সংরক্ষণ করতে না পারলে কৃষকের পরিশ্রমের বড় অংশই নষ্ট হয়ে যায়। তাই চুয়াডাঙ্গায় এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণের উদ্যোগকে পেঁয়াজ সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যাশা, প্রযুক্তির এই সহায়তায় কমবে পচন ও অপচয়, আর উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পথও আরও সহজ হবে।