ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর সভাপতিত্বে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, বাজেট বরাদ্দ ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্পে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা, সরকারি অর্থায়নে ৪ হাজার ৭১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩ হাজার ৩৮১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত উৎপাদনের চিত্রও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার ২২ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ৪ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অন্যদিকে, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট হলেও প্রকৃত উৎপাদন ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনকারী গ্রাহকেরা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন। পাশাপাশি, রুফটপ সোলার প্যানেল থেকে কত পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, তা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
এ ছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে উত্থাপিত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরসহ লিখিত প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।