বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার মঞ্চ। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট, জিম্বাবুয়ের কাছে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের অভিযান। এখন তাই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি শুরু হয়েছে নানা সমীকরণের হিসাব। ফাইনালে যেতে পরবর্তী ম্যাচে কত রান বা কত উইকেটের জয় - সেই হিসাবেই ব্যস্ত সমর্থকরা।
বাংলাদেশের পরের ম্যাচে জয়ের ব্যবধান কত হবে, বা আফগানিস্তান-এর সাথে জয়টা নিশ্চিত করতে পারবে কিনা টাইগাররা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের ফলও হয়ে উঠতে পারে গুরুত্বপূর্ণ। কোন দল জিতলে বাংলাদেশের সুবিধা বা কোন দল হারলে বাড়বে ফাইনালে ওঠার জটিলতা - সব হিসাবই কষছেন সমর্থকরা।
নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতে রাখার বদলে কেন অন্যের ফলের অপেক্ষা, সেই প্রশ্নও তাই সামনে আসছে। এই প্রশ্নের চাপটা যেন টের পাচ্ছেন ক্রিকেটাররাও। কাল ম্যাচ হারের পর সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আহমেদের কণ্ঠেও উঠে এসেছে ফাইনালে ওঠার গুরুত্ব। তার মতে, ফাইনাল খেলতে না পারলে মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ দল।
বিশ্বকাপের আগে এমন সিরিজে প্রত্যাশা ছিল নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের। কিন্তু প্রথম ম্যাচের হারেই এখন নজর সরে গেছে প্রস্তুতি থেকে ফাইনালের অঙ্কে। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত - যে জায়গাতেই ঘাটতি থাকুক, তার মাশুল দিতে হচ্ছে সমীকরণে। এখন তাই পরের ম্যাচে শুধু জয় নয়, ব্যবধানও হয়ে উঠতে পারে আলোচনার কেন্দ্রে।
বাংলাদেশের সামনে এখন নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ। তবে ফাইনালের পথ সহজ করতে নিজেদের ম্যাচ জেতার পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হতে পারে অন্য দুই দলের ফলের দিকেও। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি রান, প্রতিটি উইকেট, এমনকি অন্য ম্যাচের ফলও হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাসকিনের কণ্ঠে ছিল পরবর্তী ম্যাচে কামব্যাক করার প্রত্যয়।
ত্রিদেশীয় সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধুই একটি ম্যাচ নয়, মানসিক শক্তিরও পরীক্ষা। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে ঘুরে দাঁড়াতে হলে হিসাবের খাতা নয়, মাঠেই দিতে হবে জবাব। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ নিজেদের লড়াইয়ে ফিরবে, নাকি অন্য দলের জয়-পরাজয়ের হিসাবেই আটকে থাকবে।