সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যতটা কঠিন, শীর্ষস্থান ধরে রাখা তার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জের। আর সেই চ্যালেঞ্জ জিততেই এবার নিজের পকেটের অর্থ খরচ করে নিউজিল্যান্ড সফরে চার থেকে পাঁচজন নেট বোলার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা শুভমান গিলের। ভারতের টেস্ট অধিনায়কের এমন উদ্যোগ যেন বুঝিয়ে দেয়, বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখলেই হয় না, স্বপ্নের জন্য বাড়তি ত্যাগও স্বীকার করতে হয়।

তবে গিলের এই মানসিকতার পেছনে রয়েছে আরও বড় এক গল্প। বিদেশের মাটিতে ব্যাটারদের প্রস্তুতির জন্য নেট বোলারের ব্যবস্থা করে বিসিসিআইও। কিন্তু গিলের পরিকল্পনা আলাদা, তিনি নিজের সঙ্গে এমন বোলারদের রাখতে চান, যারা বিশেষভাবে তাঁর প্রস্তুতিতেই মনোযোগ দেবেন। আর সেই ব্যবস্থার পুরো খরচও বহন করবেন তিনি নিজেই।

গিলের এই পদক্ষেপই যেন বলে দেয়, সেরাদের কাতারে থাকতে কতটা নিবেদিত তিনি। অথচ এই গিলই একসময় বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার মতো মহাতারকাদের ছায়ায় নিজের জায়গা তৈরি করছিলেন। সেই সময় পেরিয়ে এখন তিনি ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক, পাশাপাশি ওয়ানডে ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়েও শীর্ষে রয়েছেন। 

প্রতিভা একজন ক্রিকেটারকে পরিচিতি দিতে পারে, কিন্তু ধারাবাহিকতা তৈরি হয় প্রতিদিনের পরিশ্রমে। নতুন পরিবেশ, ভিন্ন কন্ডিশন আর সুইং করা বলের চ্যালেঞ্জ সামলাতে আগেভাগেই নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চান গিল। নিজের দুর্বলতা খুঁজে বের করা, একই ধরনের বোলিংয়ের বিপক্ষে বারবার অনুশীলন - এই বাড়তি প্রস্তুতিই হতে পারে তাঁর এগিয়ে থাকার অস্ত্র।

ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব মানে শুধু মাঠে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, সাথে নিজের পারফরম্যান্স দিয়েও উদাহরণ তৈরি করা। গিল যেন সেই দায়িত্বটাই নিজের মতো করে পালন করছেন, যেখানে প্রস্তুতির দায় অন্যের কাঁধে ছেড়ে দিতে চান না তিনি। কোহলি-রোহিতদের যুগ পেরিয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তোলা এই ব্যাটারের কাছে তাই প্রতিটি সফরই নিজেকে নতুন করে প্রমাণের মঞ্চ।

তবে এই বাড়তি পরিশ্রমের আসল প্রতিদান মিলবে নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই। চার-পাঁচজন ব্যক্তিগত নেট বোলার, নিজের অর্থে প্রস্তুতির আয়োজন - গিলের এই গল্প কেবল ক্রিকেটের নয়, লক্ষ্যপূরণের অদম্য মানসিকতারও। বিশ্বের সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেকেই, কিন্তু সেই স্বপ্নের জন্য নিজের সুবিধার গণ্ডি পেরিয়ে কতজনই বা এগিয়ে যান।