বরফের চাদর ভেদ করে পারমাণবিক আইস ব্রেকারে উত্তর মেরুর দুর্ধর্ষ অভিযান।
ভাবুন তো চারদিকে শুধু বরফ। যতদূর চোখ যায়, সাদা আর সাদা। আর সেই বরফের বিশাল চাদর ভেদ করে এগিয়ে চলছে এক দানবাকৃতির জাহাজ।পৃথিবীর একেবারে উত্তরের প্রান্তের দিকে ছুটে চলেছে পারমাণবিক শক্তিচালিত এক আইস ব্রেকার। গন্তব্য পৃথিবীর একেবারে উত্তরের প্রান্ত উত্তর মেরু। আর এই অসাধারণ অভিযানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন মানিকগঞ্জের সালেহিন প্রত্যয়। জাহাজটির নাম ৫০ লেট পোবেদি , যার অর্থ ‘পঞ্চাশ বছরের বিজয়’। পারমাণবিক শক্তিচালিত এই আইস ব্রেকারেই বিশ্বের ২২টি দেশের কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ শিক্ষামূলক অভিযান ' আইসব্রেকার অফ নলেজ ' । প্রায় ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী এসব শিক্ষার্থী একই জাহাজে বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পায় মেরিন বায়োলজি, নিউক্লিয়ার ফিজিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নানা বিষয়ে।তবে এই শিক্ষা শুধু বই কিংবা ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ ছিল না। জাহাজের ল্যাবরেটরিতে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে হাতে-কলমে পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা কাছ থেকে দেখে মেরু অঞ্চলের প্রকৃতি ও পরিবেশ। আর একই জাহাজে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের সঙ্গে থাকার কারণে পরিচিত হয় ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সঙ্গে। এরপর আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়ে জাহাজ পৌঁছে যায় ৯০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে ভৌগোলিক উত্তর মেরুতে। পৃথিবীর মানচিত্রের একেবারে সর্বোচ্চ এই বিন্দুতে পৌঁছানোর মুহূর্তটি উদযাপন করা হয় নাচ, গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।কিন্তু উত্তর মেরুতে পৌঁছানো এতটা সহজ ছিল না। প্রচণ্ড ঠান্ডা, দীর্ঘ যাত্রা আর মানসিক চাপ সবকিছুর সঙ্গেই লড়াই করতে হয়েছে তরুণ অভিযাত্রীদের। কারণ মেরুর ঠান্ডা শুধু শরীরকে নয়, মনকেও পরীক্ষা নেয়। আর সেই কঠিন পথ পেরিয়ে যখন তারা শেষ পর্যন্ত উত্তর মেরুর মাটিতে দাঁড়ায়, অনুভূতিটা হয়ে ওঠে সত্যিই অবিশ্বাস্য। তাই এই অভিযান শুধু উত্তর মেরু দেখার গল্প নয়। এটি ছিল বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনার সঙ্গে কিশোরদের সরাসরি পরিচিত হওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আর বাংলাদেশের সালেহিন প্রত্যয়ের জন্য পৃথিবীর মানচিত্রের সবচেয়ে উত্তরের বিন্দুটিকে শুধু ছবিতে দেখা নয়, নিজের চোখে দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে ইতিহাসের একটি মুহূর্ত অনুভব করার সুযোগ।
মন্তব্য
প্রথম মন্তব্যটি করুন।