যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আলোচনায় মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল সায়েদ। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির মাইক রজার্স। তবে নির্বাচনের শুরু থেকেই নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এল সায়েদ।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। কিন্তু নিজ দলের সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী হেলি স্টিভেনস এবার তার বিরোধিতা করে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। এতে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

মিসরীয় অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান আব্দুল এল সায়েদের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। ছোটবেলা থেকেই নানা পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠেন তিনি। রাজনীতিতে আসার আগে ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মিশিগানের নির্বাচনী সমীকরণও বেশ জটিল। অঙ্গরাজ্যটিতে ইহুদি, মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগের মতো ইস্যুগুলো এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের জন্য এটি সিনেটর হওয়ার আরেকটি সুযোগ। এর আগে মিশিগানের সর্বশেষ সিনেট নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৪ সালের পর অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের কোনো সিনেট প্রার্থী জয় পাননি।

এল সায়েদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে রিপাবলিকানরা।

অন্যদিকে, এল সায়েদের প্রচারে অংশ নিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সব মিলিয়ে মিশিগানের সিনেট নির্বাচন ঘিরে দলীয় সমর্থন, সম্প্রদায়ভিত্তিক ভোট এবং আন্তর্জাতিক ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।