রাশিয়া ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদি অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করতে আজ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাকায়েই জানান, সফরে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে ল্যাভরভের।
ল্যাভরভ এএফপিকে জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোও তার সফরের অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এদিকে, কয়েক মাস ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে। গত অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগে অংশ নিতে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বেড়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০ বছর মেয়াদি একটি সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সমন্বয় জোরদারের কথা বলা হয়েছে। তবে এতে একে অপরকে সামরিকভাবে রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচলও আলোচনায় এসেছে।
ইরান এ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাত শুরুর পর ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমকারী কিছু জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ল্যাভরভের সফরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার ফলে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। তাঁদের মতে, এ সংঘাত শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।