বয়স বেড়েছে, বদলেছে পরিচয়ও। একসময় ব্যাট হাতে মাঠ মাতানো মোহাম্মদ আশরাফুল এখন জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে অনুশীলনের মাঠে আজও যেন সেই পুরোনো আশরাফুলই - ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসায় একটুও ভাটা পড়েনি। 

ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমানের অধীনে শেখ মেহেদির সঙ্গে ফিল্ডিং অনুশীলনে দেখা গেল আশরাফুলকে। ছোট আকারের বল হাতে নিয়ে এক হাতে ক্যাচ ধরার অনুশীলন দিয়ে শুরু - চোখ আর হাতের নিখুঁত সমন্বয়ের কঠিন পরীক্ষায় একের পর এক সফল হলেন তিনি। 

তবে অনুশীলনটা সেখানেই থামেনি। শেখ মেহেদির সঙ্গে শুরু হলো যেন ছোট্ট এক প্রতিযোগিতা - কে বেশি নিখুঁতভাবে ক্যাচ ধরতে পারেন। আর সেই লড়াইয়ে বাজিমাত আশরাফুলের। মেহেদিকে পেছনে ফেলে সেরা হওয়ার পর তাঁর মুখের উচ্ছ্বাসেও ফুটে উঠল চেনা সেই ক্রিকেটারের আনন্দ। 

যেন বয়সটা তখন আর কোনো বাধাই নয়। ক্যাচ হাতে আশরাফুলের উচ্ছ্বাস দেখে মনে হলো, আবারও ফিরে এসেছেন সেই দিনগুলোতে - যখন একটি ভালো ক্যাচ কিংবা একটি দুর্দান্ত মুহূর্তই এনে দিত তুমুল আনন্দ। 

এরপর এলো আরও কঠিন পরীক্ষা - উঁচু ক্যাচ, তাও আবার এক হাতে। বল আকাশে উঠল, চোখ স্থির থাকল লক্ষ্যে, আর মুহূর্তেই এক হাতে বলটা তালুবন্দী করলেন আশরাফুল। দ্বিতীয়বারও সফল - কোচের ভূমিকায় থেকেও খেলোয়াড়সুলভ ক্ষুধাটা যেন এখনও অটুট। 

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আশরাফুলের নাম মানেই একসময়ের রোমাঞ্চকর সব স্মৃতি। ২০০১ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক, পরে দেশের হয়ে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ সময় খেলেছেন।

আর এবার নতুন ভূমিকায় নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছেন তিনি। ২০১০ এশিয়ান গেমসে যে দলের অংশ হয়ে বাংলাদেশ সোনা জিতেছিল, এবার সেই সাফল্যের স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই কোচ হিসেবে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতিতে আশরাফুল। 

তাই হয়তো অনুশীলনের মাঠে এক হাতে ক্যাচ ধরার প্রতিটি মুহূর্তেও ফিরে আসে পুরোনো সেই তাড়না। খেলোয়াড় আশরাফুল হয়তো নেই, কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি সেই ভালোবাসা - সেটা যেন আজও ঠিক আগের মতোই জীবন্ত।