পাকিস্তান ক্রিকেটে চলমান স্পর্শকাতর তদন্ত ও নিজের মোবাইল ফোন জব্দের ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চেয়েছিলেন উইকেটকিপার-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে পুরো ঘটনা বিষয়ে জনসম্মুখে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে দুই দফায় অনুমতি চাওয়া হলেও বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি তিনি।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাতে এসব তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
ইংল্যান্ড সফর থেকে ফেরা ও তদন্তের প্রেক্ষাপট সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফর চলাকালে হঠাৎ করেই সেখান থেকে সাতজন ক্রিকেটারকে তড়িঘড়ি দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। ওই তালিকায় রিজওয়ানের পাশাপাশি ছিলেন ওপেনার ইমাম-উল-হকও। পরবর্তীতে সম্ভাব্য দুর্নীতি ও অনলাইন জুয়ার সাথে সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তাঁদের বিরুদ্ধে জোর তদন্তে নামে দেশটির ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’।
তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হতে হয় তাঁদের। একই সময়ে আকস্মিকভাবে পিসিবির নিজস্ব নিরাপত্তা দল রিজওয়ান ও ইমামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করে।
রিজওয়ানের উদ্যোগ ও পিসিবির অবস্থান জিও নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৩৪ বছর বয়সী রিজওয়ান পুরো ঘটনা ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মারাত্মক অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসতে চেয়েছিলেন। এমনকি চলমান এই তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আকসু বা দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি।
পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির শর্ত ও নিয়ম যথাযথভাবে মেনেই প্রকাশ্যে কথা বলার আবেদন করেছিলেন রিজওয়ান। চুক্তির ৪.১ ধারা অনুসারে, চুক্তিভুক্ত কোনো বিষয়ে জনসম্মুখে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে খেলোয়াড়দের জন্য বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে রিজওয়ানের করা দুটি পৃথক আবেদনের একটিতেও ইতিবাচক সাড়া বা সম্মতি দেয়নি পিসিবি।
জিও নিউজের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পিসিবি কিংবা অন্য কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা কাদা ছোড়াছুড়ি করা রিজওয়ানের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং পুরো ঘটনার সঠিক ধারাবাহিকতা এবং এ বিষয়ে নিজের নিরপরাধ অবস্থান সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের সামনে তুলে ধরতেই তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চেয়েছিলেন।