চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি, বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্বেগ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নিরসনে একতরফা চাপের পরিবর্তে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

সম্প্রতি চীন থেকে পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ইইউর সঙ্গে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইইউর বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ বেইজিং সফর করে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করেন। কয়েক মাস ধরে চলা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই পক্ষের মতপার্থক্য দূর করতে উন্মুক্ত সংলাপ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে।

বাণিজ্য ঘাটতি ও বিরল খনিজ নিয়ে উদ্বেগ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ, চীনা পণ্যের জন্য ইউরোপের বাজার তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত হলেও চীনে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে প্রবেশ ও ব্যবসা পরিচালনায় নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিরল খনিজের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের বিধিনিষেধ ইউরোপের শিল্পকারখানার সরবরাহব্যবস্থায় ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বিকল্প উৎস খোঁজার উদ্যোগ চললেও এসব খনিজের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমানো কঠিন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ইউরোপের বাজার ও বিনিয়োগের সম্পর্ক ধরে রাখাও চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে বেইজিং জানিয়েছে, একতরফা চাপ বা দাবির ভিত্তিতে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

চীন সফরে যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা

বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি চীনের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করবেন। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও কৌশলগত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাজারে প্রবেশাধিকার ও বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ে বেইজিং ও ব্রাসেলসের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সমঝোতা না হলে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ আরও জোরদার করতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে।

সূত্র: মডার্ন ডিপ্লোমেসি