আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভেনথাম ‘নাভি’ পিলাই। নোবেল কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণার আগে তাঁকে ফোনে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করে। তবে সে সময় ফোন ধরতে না পারায় পরে সহকর্মীদের কাছ থেকে পুরস্কার পাওয়ার খবর জানতে পারেন তিনি।
প্রথমে খবরটি বিশ্বাস করতে পারেননি নাভি পিলাই। একজন আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাই নোবেল পাওয়ার খবর শোনার পরও তিনি জানতে চান, বিষয়টি সত্য কি না। তখন পাশে থাকা একজন তাঁকে জানান, তাঁর পুরস্কার পাওয়ার খবর বিবিসিতেও প্রচারিত হচ্ছে। এ কথা শুনে তিনি কিছুটা আশ্বস্ত হন।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই নুরেমবার্গ আদালতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়ার মুহূর্তটি ভিডিওতে ধারণ করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
ভিডিওতে নাভি পিলাইকে রসিকতা করতেও দেখা যায়। তিনি মজা করে বলেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা যদি তাঁকে আরও বেশি অভিনন্দন জানান, তাহলে তিনি তাঁর পুরস্কার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। তাঁর এ মন্তব্যে সেখানে উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন।
পুরস্কার পাওয়ার খবর সম্পর্কে নিজের প্রতিক্রিয়ায় নাভি পিলাই বলেন, “একজন আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে, আমি এখনো এটির সত্যতা যাচাই করতে চাই।”
গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন নাভি পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশন গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি তদন্ত করে। কমিশনের প্রতিবেদনে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েল তা প্রত্যাখ্যান করে।
নোবেল পাওয়ার পর নিজের কাজের প্রসঙ্গ টেনে নাভি পিলাই গাজা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁর সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে ছিল গাজা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়া, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে সেখানে গণহত্যা সংঘটিত হচ্ছে। প্রতিবেদনটি পড়ার পর অনেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন বলেও জানান তিনি।
তবে এ ধরনের প্রশংসায় বিস্ময় প্রকাশ করে নাভি পিলাই প্রশ্ন তোলেন, “শুধু সত্য কথা বলার জন্য কাউকে সাহসী হতে হবে কেন?”