দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সোমবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু বুধবার রাতে বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে আবারও উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়।
কর্তৃপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকার কারণেই বয়লার প্ল্যান্টে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে কারখানার অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল রয়েছে। বয়লারের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলে দ্রুতই পুনরায় উৎপাদন শুরু করা যাবে।
কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই দিনের মধ্যেই উৎপাদন ফের চালু হতে পারে।
যদিও পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালানো সম্ভব হয়নি, তবুও পুনরায় চালুর পর দুই দিনে কারখানাটিতে মোট ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হয়েছে।
গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এর আগেও দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাসের চাপ বাড়লে উৎপাদন শুরু হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে যমুনা সার কারখানার। দীর্ঘ বন্ধের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে সোমবার ভোরে পুনরায় উৎপাদন শুরু করেছিল কর্তৃপক্ষ।
বিসিআইসির তালিকাভুক্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে। কারখানাটি নিয়মিতভাবে চালু থাকলে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব, যার বিপরীতে লাভ হতে পারে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার অন্যান্য ব্যয়ের পাশাপাশি শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখতেই প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা গ্যাস বিল দিতে হয়।