দুর্গাপূজা উপলক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, দপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা ফ্রন্ট, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, মহানগর পূজা পরিষদসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। প্রতিবছর পূজার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বর্তমানে প্রশংসনীয় পর্যায়ে রয়েছে। এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে। গত বছরগুলোতে যেখানে প্রায় ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৩৩ হাজার ৮১০টিতে দাঁড়িয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার মণ্ডপ বেড়েছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনকালীন সময়ে এনটিএমসি থেকে ব্যবহৃত অ্যাপ ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত তথ্য পাওয়া যায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, পুলিশের সদর দপ্তর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপের আশপাশের থানায় স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে ২৪ ঘণ্টা জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেনারেটর অচল হলে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য চার্জার লাইট রাখার কথাও বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি তিন দিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় কার্যত পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছুটি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে কোনো এলাকায় ঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। নিরাপত্তার বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারিদের তালিকা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে উদযাপিত হবে।