একদিকে পানির সংকটে হাহাকার, অন্যদিকে আগ্নেয়গিরির আগুনে আকাশজুড়ে ছাই ইন্দোনেশিয়ার মানুষের জন্য যেন একের পর এক কঠিন পরীক্ষা। আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতে বড় বিপদের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের। আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থীদেরও সতর্ক করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে আশঙ্কায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব এড়াতে আগ্নেয়গিরির চারপাশে অন্তত তিন কিলোমিটার এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সেখানে থাকা দর্শনার্থীদেরও ওই সীমার বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ পরিস্থিতির অবনতি হলে যাতে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়া যায়, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। শুধু মানুষকে সরিয়ে নেওয়াই নয়, অগ্ন্যুৎপাতের ছাই থেকে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিম জাভা, বান্দেন ও লামপুং এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম বন্ধ রেখে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছে। ফলে আগ্নেয়গিরির প্রভাব এখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থাতেও পড়েছে।

অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা আপাতত কিছুটা কমলেও পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক বলছে না কর্তৃপক্ষ। এয়ার নেভিগেশন সার্ভিস ও আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম আবারও বাড়তে পারে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই আগ্নেয়গিরির ইতিহাসও কম ভয়ংকর নয়। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতের পর গড়ে ওঠে আনাক ক্রাকাতোয়া। আর ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের সঙ্গে যুক্ত সুনামিতে প্রাণ হারান চার শতাধিক মানুষ। তাই এবারও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম বাড়তেই আতঙ্কের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা।