উত্তর আমেরিকার মেটা কর্মীদের হুট করে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছিল এবং স্থানীয় সময় ভোর ৪টা থেকে ই-মেইল পাঠিয়ে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া শুরু হয়, মেটার কর্মীরা হয়তো ভাবছিলেন, ঘরে বসেই শুরু করবেন দিনের কাজ। কিন্তু স্ক্রিনে ভেসে ওঠা একটি ই-মেইলই বদলে দিল তাদের কর্মজীবনের ভবিষ্যৎ। মেটায় চাকুরী করায় অফিসে গিয়ে কোনো ঘোষণা নয়, কোনো দীর্ঘ বৈঠকও নয় অনেক কর্মী নিজের বাড়িতে বসেই জানতে পারেন, মেটায় তাদের পদ আর থাকছে না। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক মেটায় ২০২৬ সালে বড় ধরনের কর্মী পুনর্গঠনের ঘোষণা আসে। মে মাসে উত্তর আমেরিকার কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়। এরপর স্থানীয় সময় অনুযায়ী কর্মীদের কাছে পৌঁছাতে শুরু করে সেই গুরুত্বপূর্ণ ই-মেইল। আর সেটি খুলতেই অনেকের সামনে আসে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার খবর। সিঙ্গাপুরের কর্মীদের কাছেও স্থানীয় সময় ভোরের দিকে এমন নোটিশ পৌঁছানোর কথা জানা যায়। অর্থাৎ দিনের কাজ শুরু হওয়ার আগেই একটি ই-মেইল তাদের জীবনে নিয়ে আসে বড় পরিবর্তন।

সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার কর্মী, অর্থাৎ মেটার মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ, ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়েন। একই সময়ে প্রায় ৭ হাজার কর্মীকে এআই-সম্পর্কিত নতুন দায়িত্বে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়। ফলে এটি শুধু কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত ছিল না মেটার কাজের ধরন ও সাংগঠনিক কাঠামোও নতুন করে সাজানো হচ্ছিল। এই পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল ‘প্রজেক্ট ওটি’, অর্থাৎ ‘অর্গানাইজেশন ট্রান্সফরমেশন’। এর লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন দলের কাজের কাঠামো নতুনভাবে সাজানো এবং প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো। কিছু দলের আকার ছোট করে তুলনামূলক কম কর্মীর মাধ্যমে বেশি কাজ করিয়ে নেওয়ার এই আগ্রাসী প্রযুক্তিগত রূপান্তর আজ হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

তবে এআইকে কেন্দ্র করে মেটার এই বড় পরিবর্তনও সবকিছু সহজ করে দেয়নি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এর তথ্য অনুযায়ী প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, কর্মীদের ভেতরের তীব্র উদ্বেগ এবং উৎপাদনশীলতা নিয়ে নানা প্রশ্ন খুব দ্রুতই সামনে চলে আসে। এমনকি পরবর্তী সময়ে এআইয়ের ওপর ভরসা করে আরও বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের যে গোপন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, সেটিও একপর্যায়ে স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।মেটার এই ঘটনা তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাইয়ের গল্প নয়। এটি আজ পুরো মানবজাতির সামনে এনেছে আরও বড় একটি প্রশ্ন এআই কি শুধু মানুষের কাজকে সহজ করবে, নাকি ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে মানুষের অস্তিত্বকেই সংকটে ফেলে দেবে? উত্তর হয়তো সময়ই দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট কর্মক্ষেত্রে এআইয়ের প্রভাব আর ভবিষ্যতের কোনো কাল্পনিক গল্প নয়, এর নিষ্ঠুর পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।