সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু তার আগে পেছনে ফিরে তাকালে বাংলাদেশের ফুটবলে হতাশার ছবিটাই যেন বেশি স্পষ্ট। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি লাল-সবুজের দল। বিশেষ করে আসিয়ান কাপ-এ তিন ম্যাচেই হার, ১৩ গোল হজমের বিপরীতে মাত্র ২ গোল - ফলাফলটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দলের দুর্বলতাগুলো।
আর সেই হতাশার ধাক্কা থেকেই এবার সাফকে সামনে রেখে নতুন করে ছক কষছেন কোচ থমাস ডুলি। কারণ জাকার্তায় বড় হারের পর ডুলির বার্তাটা ছিল পরিষ্কার - ওই টুর্নামেন্ট ছিল শেখার জায়গা, কিন্তু ঘরের মাঠের সাফে লক্ষ্য হবে জয়। তাই সময় নষ্ট না করে দলের ঘাটতিগুলো পূরণে মরিয়া কোচ।
সেই পরিকল্পনার বড় অংশজুড়েই রয়েছে প্রবাসী ফুটবলার। মাত্র এক মাসের মধ্যে চার প্রবাসীকে জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত করতে চান ডুলি - দলের গতি, শারীরিক সক্ষমতা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বাড়াতেই এমন উদ্যোগ। এর আগেও বিদেশে খেলা একাধিক ফুটবলারকে ক্যাম্পে এনে সরাসরি দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই কোচ।
আর প্রবাসীদের তালিকায় আলোচনায় থাকা নামগুলোর একটি সাইফ কেরাওয়ালা। ছয় ফুট চার ইঞ্চি উচ্চতার এই গোলরক্ষক এরই মধ্যে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সুযোগ পেয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত আসিয়ান কাপ-এর ২৩ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি তার, সাফের আগে গোলবারের বিকল্প হিসেবে আবারও আলোচনায় আসতে পারেন সাইফ।
শুধু গোলরক্ষক নয়, দলের অন্য পজিশনেও প্রবাসী প্রতিভা খুঁজছেন ডুলি। কারণ জাকার্তায় প্রতিপক্ষের গতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা আর টেকনিক্যাল মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবধানটা ছিল স্পষ্ট। ডুলির মতে, আন্তর্জাতিক মানে উঠতে হলে খেলোয়াড়দের আরও বেশি সময় উচ্চ গতির ফুটবলে অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার প্রয়োজন।
তাই সব মিলিয়ে সাফের আগে ডুলির হাতে সময় কম, চাপও কম নয়। আসিয়ান কাপ-এর হতাশাজনক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার দলকে নতুনভাবে সাজাতে চাইছেন তিনি। প্রবাসীদের শক্তি, নতুন মুখ আর নিজেদের ঘাটতি শুধরে - ঘরের মাঠের সাফে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন ডুলির মূল লক্ষ্য।
আর সেই লক্ষ্য পূরণ না হলে কোচের ভবিষ্যৎ নিয়েও যে প্রশ্ন উঠবে, সেটি এখন আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই সাফের আগে ডুলির এই দৌড়টা শুধু একটি শক্তিশালী দল গড়ার নয় - এ যেন বাংলাদেশের ফুটবলে নিজের পরিকল্পনারও বড় পরীক্ষা। গোলবারে সাইফ কেরাওয়ালা, সঙ্গে আরও তিন প্রবাসী - এই নতুন সংযোজনই কি ডুলির সাফ জয়ের শেষ বাজি?