গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি চালু করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে বদলি বাণিজ্য বন্ধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের উপযুক্ত স্থানে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি-পদায়নের লটারি কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং অতিরিক্ত সচিব মো. সারোয়ার আলম।

মন্ত্রী জানান, এর আগে গত ৩০ জুলাই ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী, আগস্টে ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং গত ১৬ আগস্ট ২১৯ জন সহকারী প্রকৌশলী ও ১৯০ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলীকে লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জন কর্মকর্তার বদলি-পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, মানবিক বা বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও মানবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জাকারিয়া তাহের বলেন, এবারের কার্যক্রমে ১৫৫ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি-পদায়ন করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, কর্মস্থল ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরন ও শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট জোনের মধ্যেও লটারির মাধ্যমে পদায়ন করা হবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংসদ সচিবালয়সহ তিন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পদায়ন আপাতত স্থগিত রাখা হতে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরকে স্বচ্ছ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বদলি বাণিজ্য বন্ধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের উপযুক্ত পদে দায়িত্ব দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। বিশেষ করে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে গণপূর্ত বিভাগের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে চায় সরকার।

তিনি আরও জানান, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাঁদের পূর্ববর্তী কর্মস্থল, চাকরির রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করেই পদায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরপর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, মন্ত্রণালয় ও এর অধীন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে ল্যান্ড ব্যাংক তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের মেয়াদের মধ্যেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে যতটা সম্ভব ডিজিটাল করা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি জমির সঠিক পরিমাণ, অবস্থান, দখল এবং বেদখল অবস্থার তথ্য শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবাসন বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আবাসন বরাদ্দের প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কে আবাসন বরাদ্দ পাচ্ছেন এবং কারা পাচ্ছেন না, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জমির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষণ এবং ল্যান্ড ব্যাংকের মাধ্যমে জমির মালিকানা ও দখল পরিস্থিতি চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। লটারি কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতি—যে মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালিত হোক না কেন, সব ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।