জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের বীরত্বগাথা স্মরণ করে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম সাধারণ বিতর্কে বাংলায় প্রদত্ত ভাষণের শুরুতেই তিনি ২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদ ও আহতদের প্রতি এই গভীর বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বক্তব্য প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “ভাষণের শুরুতেই আমি স্বাধীন বাংলাদেশের সকল বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সালাম নিবেদন করছি। একই সাথে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যাঁরাই আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সবার ঐতিহাসিক অবদানকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি। এছাড়া স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই-আগস্টে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী সকল শহীদ ও আহতদের প্রতিও আমি আমার অকৃত্রিম শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”
তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে অপশাসনের বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের পর পর বাংলাদেশ আজ সম্পূর্ণভাবে ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।
দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন এবং রাজনৈতিক রূপান্তর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অত্যন্ত সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই ঐতিহাসিক নির্বাচনে দেশের সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব প্রদান করেছে।
ভাষণে দেশের গণমানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী সর্বস্তরের সাধারণ জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা হৃদয়ে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এ দেশের সাধারণ জনগণই আমাদের সার্বিক রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র মূল উৎস।”