বাংলাদেশ এ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার পর এবার আফগানিস্তান সিরিজে ডাক পেলেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। এছাড়া আফ্রিকার মাটিতে নিজের ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়ে এই সিরিজে আবারও দলে ডাক পেয়েছেন জাকের আলী অনিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়ে নিজেকে তেমনভাবে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন হৃদয়। অপরদিকে, দীর্ঘ দেড় বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে দলে ডাক পেয়েও পরবর্তীতে লিটনের বদলি হিসেবে দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল জাকেরকে। তবে আফগানদের বিপক্ষে সাদা পোশাকে আবারও ব্যাট হাতে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন টাইগার দলের এই ডানহাতি ব্যাটাররা।

আগামী ৯ অক্টোবর থেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে টাইগারদের সাদা পোশাকের খেলা। এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষে রঙিন পোশাকে খেলা ছাড়াও একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণ করবে টাইগাররা। ত্রিদেশীয় সেই সিরিজে তৃতীয় দল হিসেবে অংশগ্রহণ করবে জিম্বাবুয়ে।নাজমুল হোসেন শান্তকে অধিনায়ক ও মেহেদী হাসান মিরাজকে সহ-অধিনায়কের ভূমিকায় রেখে দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে খেলা তাসকিন আহমেদ ও অমিত হাসান বাদ পড়েছেন আফগানিস্তান সিরিজে। মূলত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো ম্যাচ না হওয়ায় এই সিরিজে বিশ্রামে রাখা হয়েছে এই দুই ক্রিকেটারকে।

দলে ফিরলেও হৃদয় ও জাকেরের জন্য জায়গাটা মোটেও সহজ হবে না। কারণ টেস্ট দলে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের পাশাপাশি নিজেদের জায়গা ধরে রাখতে লড়াই করতে হবে তরুণদেরও। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পাওয়া সাফল্য এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে লাগানোর পালা হৃদয় ও জাকেরের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পেলে ব্যাট হাতে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে থাকবেন দুজনই।

সাদা পোশাকে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও থাকছে অভিজ্ঞতার ছাপ। মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদের সঙ্গে পেস আক্রমণে থাকছেন খালেদ আহমেদ, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও শরিফুল ইসলাম। আফগান সিরিজে  ফিরে এবাদতও নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পাবেন। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক ম্যাচের টেস্টে বাংলাদেশের একাদশ কেমন হয়, সেটিও থাকছে আলোচনায়।

সাদা পোশাকের লড়াইয়ের পরপরই টাইগারদের জন্য অপেক্ষা করছে রঙিন পোশাকের লড়াই। টেস্টের পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়েকে সঙ্গে নিয়ে হবে ত্রিদেশীয় সিরিজ। সব মিলিয়ে আফগানিস্তান সফরটি হতে যাচ্ছে টাইগারদের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি ও সামর্থ্য যাচাইয়ের বড় সুযোগ। আর সেই মঞ্চে হৃদয়-জাকেররা দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।