জাপানের নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতীয় ব্যাটার শেফালি বর্মার রুদ্রমূর্তির সামনে কার্যত খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। শেফালির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম চোখধাঁধানো শতকের ওপর ভর করে বাংলাদেশকে ১১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে ভারত। স্বর্ণপদকের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মঙ্গলবার তাদের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা, যা মূলত ২০২৩ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসের ফাইনালেরই এক রোমাঞ্চকর পুনরাবৃত্তি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক। ব্যাটিংয়ে নেমে দুই ভারতীয় ওপেনার শেফালি বর্মা ও স্মৃতি মন্ধনা শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর তাণ্ডব চালান। পাওয়ারপ্লেতেই এ জুটি স্কোরবোর্ডে ৭২ রান তুলে নেন। এই ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সুজি বেটসকে টপকে নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হওয়ার অনন্য গৌরব অর্জন করেন স্মৃতি মন্ধনা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের শততম ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ৩৭ রান করে নাহিদা আক্তারের শিকারে পরিণত হন স্মৃতি। এরপর ক্রিজে আসা জি কামালিনী ১০ বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফিরলে ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছিল।
তবে অন্য প্রান্তে শেফালি বর্মা ছিলেন একদমই অপ্রতিরোধ্য। ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ফিফটি পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে শততম ওভারবাউন্ডারি ছোঁয়ার কীর্তি গড়েন তিনি। পরবর্তীতে অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরকে (৪০) সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেওয়ার মতো ৯৪ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়ে তোলেন শেফালি। বাংলাদেশের বোলার নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তারের এক ওভার থেকে ২২ রান আদায়সহ মাঠের চারদিকে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান এই ডানহাতি ব্যাটার। ইনিংসের শেষ বলে কাভার-পয়েন্টে ঠেলে এক রান নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি উদযাপন করেন শেফালি। ৪৯ বলে ৯টি সুবিশাল ছক্কা ও ৩টি চারে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাঁর এই ঐতিহাসিক ইনিংসের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানের পাহাড়সম পুঁজি পায় ভারত।
১৯৬ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম থেকেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দিলারা আক্তার (২৭) ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি (৯)—এই দুজনের গড়া ২৯ রানের জুটি ছাড়া বাকিদের ব্যাটিং লাইনআপে ছিল চরম ব্যর্থতার চিত্র। দলটির মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে সমর্থ হন।
ভারতের নিয়ন্ত্রিত স্পিন ও পেসের যৌথ আক্রমণের মুখে পিষ্ট হয়ে ১৫.৪ ওভারে মাত্র ৮১ রানেই তাসের ঘরের মতো গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নিজের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে বল হাতে নেমে প্রথম বলেই উইকেটের দেখা পান ভারতের নন্দিনী শর্মা, পরবর্তীতে তিনি নেন ৩টি উইকেট (৩/২৫)। এছাড়া চমৎকার বোলিংয়ে স্পিনার দীপ্তি শর্মা ৭ রানে ৩টি এবং শ্রী চরাণী ৭ রান খরচায় তুলে নেন ২টি উইকেট।
উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই নারী এশিয়া কাপের ফাইনালেও এই ভারতের কাছেই ৪০ রানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল-সবুজের মেয়েদের।