হাসান মাহমুদ নেই, তাই কেন্টের পেস আক্রমণে বাড়তি দায়িত্বটা যেন এসে পড়েছিল খালেদ আহমেদের কাঁধে। আর সেই দায়িত্বকে শুধু সামলানইনি বরং বল হাতে আগুন ঝরিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন বাংলাদেশের এই পেসার। হাসানের অনুপস্থিতিতে কেন্ট যে একজন ভরসার পেসার খুঁজছিল, খালেদ যেন সেই জায়গাটাই পূরণ করে দিলেন।
আর দায়িত্বটা কতটা নিখুঁতভাবে পালন করেছেন, সেটার প্রমাণ মিলেছে তাঁর বোলিংয়ের পরিসংখ্যানেই। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৫ ওভার ৫ বলে ৪২ রান দিয়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শুরুতে জেনিংসকে ফিরিয়ে ব্রেকথ্রু এনে দেওয়ার পর একে একে ব্যাটারদের সাজঘরে পাঠিয়েছেন খালেদ। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তাঁর দশম পাঁচ উইকেটের শিকার।
তবে এই পাঁচ উইকেটের পেছনের গল্পটাও বেশ চমকপ্রদ। ম্যাচের শুরুতে ৮১ রানের ওপেনিং জুটিতে ল্যাঙ্কাশায়ার যখন স্বস্তিতে এগোচ্ছিল, তখনই খালেদের ধারালো বোলিং বদলে দেয় ম্যাচের সুর। একের পর এক নিখুঁত লাইন-লেংথ আর বোলিংয়ে বৈচিত্র্য এনে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে ধরান ধস। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে কেন্টের হাতে।
আর ম্যাচের শেষভাগে এসে খালেদ দেখালেন তাঁর স্নায়ুর জোরও। পরপর দুই বলে মিচেল স্ট্যানলি ও অধিনায়ক জেমস অ্যান্ডারসনকে ফিরিয়ে পূর্ণ করলেন পাঁচ উইকেট। পরপর দুই বলে দুই উইকেট - হ্যাটট্রিকের সুযোগ তখন হাতের মুঠোয়। কিন্তু মজার ব্যাপার, সেই মুহূর্তে হ্যাটট্রিকের কথা নাকি খালেদের মাথাতেই ছিল না। তাঁর ভাবনা ছিল শুধু নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করে যাওয়া।
তবে পাঁচ উইকেটেই থামেনি খালেদের ক্ষুধা। কেন্ট প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার পর আবার যখন ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটাররা ক্রিজে, তখনও বল হাতে একই ধার। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে চাপ ধরে রাখেন বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার। শেষ পর্যন্ত ল্যাঙ্কাশায়ার অলআউট হয় ১৯২ রানে, আর খালেদের শিকার দাঁড়ায় ম্যাচে মোট ৮ উইকেট।
হাসানকে মিস করছেন খালেদ, কিন্তু বল হাতে নিজের গল্পটা লিখছেন নিজের মতো করেই। আর হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও যার মাথায় ছিল না ব্যক্তিগত মাইলফলকের চিন্তা বরং ছিল দলের জন্য আরও একটি উইকেট - সেই খালেদের ৮ উইকেটের গল্প তাই শুধু সংখ্যার নয়, এটি তাঁর বোলিংয়ের ধার, আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত পরিকল্পনারও গল্প।