ক্যাফে থেকে গলির টং—দেশে বদলে যাচ্ছে কফি পানের অভ্যাস। একসময় অতিথি আপ্যায়ন কিংবা আড্ডার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল চা। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্রে এসেছে পরিবর্তন। অভিজাত এলাকার থিম ক্যাফে থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার টং দোকান—সবখানেই এখন কফির উপস্থিতি বাড়ছে।

নতুন প্রজন্মের কাছে কফি এখন শুধু একটি পানীয় নয়, বরং সামাজিকতারও একটি অংশ। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পড়াশোনা কিংবা অবসর কাটানোর জায়গা হিসেবে ক্যাফের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাফেকে রিমোট কাজ বা পড়াশোনার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছেন। ল্যাপটপ নিয়ে এক কাপ কফির সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার সংস্কৃতিও শহরাঞ্চলে দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্বল্পমূল্যের কফি টং দোকানেও জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে সাশ্রয়ী দামের ৩-ইন-১ স্যাশে কফি সাধারণ মানুষের কাছে কফিকে আরও সহজলভ্য করেছে। বড় জার কেনা কিংবা ক্যাফেতে যাওয়ার প্রয়োজন ছাড়াই অল্প খরচে কফির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সুবিধা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ায় তরুণদের বৈশ্বিক কফি সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগও বাড়ছে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের কফি বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপের ‘আমা কফি’। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বাজারে আসার পর ব্রাজিলিয়ান কফি ব্লেন্ডে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে ৩-ইন-১ স্যাশে কফি সেগমেন্টে আমা কফি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান দাবি করছে।

গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী আমা কফির পণ্য তালিকায় রয়েছে ১৪ গ্রামের ৩-ইন-১ ইন্সট্যান্ট কফি, ১৫ গ্রামের সুগার ফ্রি কফি এবং ১ গ্রামের ক্লাসিক কফি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য ভেন্ডিং মেশিন ও কফি সলিউশনও সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্র্যান্ডটির তথ্যমতে, গত বছরের হিসাবে কফি আমদানিতে আমা কফি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আমদানিকারক। বিস্তৃত সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটার জায়গাগুলোতে পণ্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুধু ক্যাফে বা ঘরোয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, ক্যাম্পাস আয়োজন, অফিসের বিরতি ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনে কফিকে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকার ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় ‘আমা কফি ক্যাম্পাস ফুটসাল ২০২৬’।

কফি বাজারে ব্র্যান্ডটির অবস্থানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের ‘বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’-এ ‘মোস্ট ইমার্জিং ব্র্যান্ড অব বাংলাদেশ-২০২৫’ সম্মাননা পেয়েছে আমা কফি।

সব মিলিয়ে দেশের কফি সংস্কৃতির পরিবর্তন শুধু ক্যাফের সংখ্যা বাড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কফি এখন টং দোকান, ক্যাম্পাস, অফিস ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনেও জায়গা করে নিচ্ছে। আর সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের কারণে পানীয়টি ধীরে ধীরে আরও বড় ভোক্তা শ্রেণির দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ হয়ে উঠছে।