শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা ও কর্মকর্তা লাঞ্ছনার অভিযোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানিয়েছে দলটি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রতিবাদ ও দাবি জানান।

বিবৃতির বিস্তারিত ও বিমানবন্দরের হয়রানি প্রসঙ্গ বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি সাধারণ অন্যান্য যাত্রীদের মতোই নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির মুখোমুখি হন। একজন নাগরিক হিসেবে এর প্রতিবাদে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দায়িত্বরতদের কাছে যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে ইতোমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ নিজেও জানিয়েছে, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তবে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার রাতে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দায়ের করা হয় এবং সেই মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বিমানবন্ধরের অব্যবস্থাপনা তদন্তের আহ্বান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও চরম হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ থেকে মূল্যবান সামগ্রী চুরি বা হারিয়ে যাওয়া, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব, এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে দৌড়ঝাঁপ এবং বিশেষ করে নারী, অসুস্থ ও প্রবীণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভোগান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ সাধারণ যাত্রীরা যে ধরনের চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান।

পরিশেষে, অবিলম্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং বিমানবন্দরে সব ধরনের যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।