বই পড়ার অভ্যাস মানুষের জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি চিন্তাভাবনার পরিধিও বিস্তৃত করে। তবে এর প্রভাব শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আনন্দের জন্য নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে ভালো মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সম্পর্ক রয়েছে।
শৈশব থেকেই পড়ার অভ্যাস
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে বই পড়ার সঙ্গে মস্তিষ্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যের নানা ইতিবাচক দিকের যোগসূত্র পেয়েছেন। গবেষকদের মতে, ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।
পড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ধরনের বই বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। কাগজের বই, ই-বুক কিংবা নিজের পছন্দের উপন্যাস যেকোনো মাধ্যমেই আনন্দ নিয়ে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বারবারা সাহাকিয়ানের মতে, মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখা, জ্ঞানীয় দক্ষতা বাড়ানো এবং সামগ্রিকভাবে ভালো থাকার ক্ষেত্রে বই পড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে। যেকোনো বয়সে এই অভ্যাস শুরু করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডিজিটাল বিনোদনে কমছে বই পড়া
গবেষণা পর্যালোচনায় শিশু-কিশোরদের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের অবসর সময়ে বই পড়ার প্রবণতা হ্রাস পাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এর পেছনে ডিজিটাল ডিভাইস ও অনলাইন বিনোদনের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ অন্যতম কারণ।
শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে তাদের পছন্দের বিষয় দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। কমিকস ও গ্রাফিক নভেলও শিশুদের পড়ার অভ্যাস তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।
বড়দের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব
প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে মানসিক চাপ কম থাকা, ভালোভাবে বিশ্রাম নেওয়া এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি বেশি সহনশীলতার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখে এমন অবসর কর্মকাণ্ড জ্ঞানীয় অবক্ষয়ের গতি ধীর হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বই পড়ার পাশাপাশি বুক ক্লাব বা পাঠচক্রের মতো সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হলে একাকিত্ব বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও কমতে পারে। তবে বই পড়ার ফলে মস্তিষ্কে ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় এসব ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।