অবৈধ অভিবাসন বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে ইউরোপের শ্রমবাজারে দক্ষ ও বৈধ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে ইইউর স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধ, বৈধ পথে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ পথে মানবপাচার রোধের পাশাপাশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইইউর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অভিবাসন শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনে ইউরোপে শতভাগ বৈধ ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিবেশ তৈরি করতে চায় সরকার।
ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অবৈধ অভিবাসনের পথ বন্ধ করা উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার। অবৈধ অভিবাসন কমানো গেলে ইউরোপের শ্রমবাজারে বৈধভাবে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।
দক্ষ কর্মীদের সনদ নিয়ে আলোচনা
বৈধ অভিবাসনের গতি বাড়াতে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন নিয়েও আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় ৭৫০ জন দক্ষ কর্মীর ইউরোপীয় সার্টিফিকেশন-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ইইউভুক্ত দেশগুলোর প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে এসে সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ইইউ প্রতিনিধি দল।
সীমান্ত নিরাপত্তায় নতুন প্রযুক্তি
বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে যাত্রী চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ‘অ্যাডভান্সড প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন অ্যান্ড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্যবস্থা ইন্টারপোলের ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া ইউরোপীয় বর্ডার অ্যান্ড কোস্ট গার্ড এজেন্সি (FRONTEX)-এর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ইইউর সহযোগিতা কামনা
রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরিতে ইইউর সহযোগিতা চান তিনি। জবাবে প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডিরেক্টর হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস, ইইউর ডেপুটি হেড অব মিশন বাইবা জারিনা এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।