অনেকক্ষন বসে থাকার পর পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা খুব পরিচিত একটি সমস্যা। কখনও মনে হয় পায়ের ভিতর যেন অসংখ্য পিঁপড়ে হাঁটছে। পা নাড়ানো যায় না। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, স্নায়ুর উপর চাপ ও রক্ত চলাচলে পরিবর্তন এর প্রধান কারণ।'
দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে থাকলে পায়ের বিভিন্ন অংশে চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে পা ভাঁজ করে বা একদিকে কাত হয়ে বসলে স্নায়ু বা আশপাশের টিস্যুতে চাপ পড়ে। এর ফলে স্নায়ুর স্বাভাবিক সংকেত সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে ঝিঁঝিঁভাব দেখা দিতে পারে।
পায়ে ঝুঁঝি ধরার অন্যতম প্রধান কারণ হল স্নায়ুর উপর সাময়িক চাপ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার সময় শরীরের ওজন নির্দিষ্ট জায়গায় চাপ সৃষ্টি করে। ফলে স্নায়ু কিছু সময়ের জন্য ঠিকভাবে সংকেত পাঠাতে পারে না। তখন অসাড়তা বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতি হয়।
দীর্ঘক্ষণ নড়াচড়া না করে বসে থাকলে পায়ের রক্ত চলাচল কিছুটা ধীর হতে পারে। বিশেষ করে হাঁটু বা পায়ের ওপর চাপ থাকলে অস্বস্তি বাড়ে। ফলে, পায়ে সাময়িকভাবে ঝিঁঝিঁ, ভারী লাগা বা অবশ হয়ে যায়। নড়াচড়া করলে সাধারণত তা কমে যায়।
পা গুটিয়ে বসা, দীর্ঘসময় পায়ের উপর পা তুলে রাখা ও চেয়ারে বসে হাঁটুর পেছনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা - এসব ভঙ্গিতে ঝিঁঝি ধরার সম্ভাবনা বেশি। তাই বসার সময় পা স্বাভাবিক রাখা ও নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করা ভাল।
অনেকক্ষন বসে থাকার পর পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরলে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান। কয়েক মিনিট হাঁটুন ও পায়ের আঙুল, গোড়ালি ও হাঁটু নাড়াচাড়া করুন। এতে স্নায়ুর উপর চাপ কমে ও রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। সাধারণত কিছুক্ষণের মধ্যেই অস্বস্তি কমে যায়।
একটানা দীর্ঘসময় বসে না থেকে মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করুন। কাজের সময় নিয়মিত বিরতি নেওয়া, পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করা ও দীর্ঘসময় পা ভাঁজ করে না বসা উপকারী। ডেস্কে বসে কাজ করলেও মাঝে মাঝে গোড়ালি ওঠানো বা পায়ের আঙুল নড়ানো যেতে পারে।
মাঝেমধ্যে ঝিঁঝি ধরা খুব সাধারণ। তবে এটি যদি বারবার হয়, দীর্ঘসময় থাকে, বসে না থাকলেও দেখা দেয়, অথবা ব্যথা, জ্বালাপোড়া, অসাড়তা বা পা দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।