ডায়াট বা নিয়মিত শরীরচর্চা করার পর ওজন কমলে জমাট চর্বি আসলে কোথায় হারিয়ে যায়? সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচলিত ধারণা—মেদ ঝরে মূলত ঘাম হয়ে কিংবা মলমূত্রের মাধ্যমে। তবে বিষয়টির নেপথ্যে থাকা বিজ্ঞানের বাস্তব রসায়ন উন্মোচন করেছেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।
শরীরে যেভাবে জমে চর্বি প্রক্রিয়াটির শুরু আমাদের দৈনন্দিন খাবারের টেবিল থেকে। চর্বিযুক্ত খাবার পাচনতন্ত্রে গিয়ে ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিণত হয়। শরীর এই ফ্যাটি অ্যাসিডের কিছু অংশ কোষ গঠন, হরমোন নিয়ন্ত্রণ ও ভেতরের অঙ্গ সুরক্ষায় ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত অংশটি ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে ফ্যাট সেলে জমিয়ে রাখে। পরবর্তীতে শরীরে শক্তির ঘাটতি হলে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে চামড়ার নিচে ও ভেতরের অঙ্গের চারপাশে এগুলো জমা হতে থাকে।
ডায়াট বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতে ফ্যাট সেলগুলো সাড়া দেয়। এই ভাঙন প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘লাইপোলাইসিস’। ফ্যাট সেল থেকে ট্রাইগ্লিসারাইড ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড হিসেবে কোষের শক্তির ঘর মাইটোকন্ড্রিয়ায় যায় এবং বিটা-অক্সিডেশনের মাধ্যমে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার শেষ উপজাত হিসেবে দুটি জিনিস তৈরি হয়—কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি।
ফুসফুস ও শ্বাসের মাধ্যমে বের হয় ৮৪% চর্বি সাধারণ মানুষ মনে করেন মেদ ঝরা মানেই প্রচুর ঘাম হওয়া। তবে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, আসল চমক অন্য জায়গায়। ঝরে যাওয়া চর্বির সিংহভাগই ফুসফুসের মাধ্যমে আমরা যখন শ্বাস ছাড়ি, তখন বাতাসে মিলিয়ে যায়।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, পুড়িয়ে ফেলা মেদের প্রায় ৮৪ শতাংশই কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়ে নিশ্বাসের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। আর অবশিষ্ট ১৬ শতাংশ পানি হয়ে ঘাম, প্রস্রাব ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে নিষ্ক্রান্ত হয়।
দ্রুত শ্বাস নিলেই কি মেদ কমবে? তাহলে কি দ্রুত বা জোরে জোরে শ্বাস ছাড়লেই চর্বি গলে যাবে? গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—না, দ্রুত শ্বাস ফেলা কেবল জমে থাকা পোড়া চর্বির বর্জ্য বের করে দেওয়ার পথ মাত্র, এটি চর্বি পোড়ানোর অনুঘটক নয়। চর্বির ভাণ্ডার থেকে মেদ গলাতে হলে একমাত্র উপায় হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে শরীরে ক্যালরির ঘাটতি বজায় রাখা।