দেশে অসংক্রামক রোগের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হৃদরোগসহ এসব রোগ প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ৫০ থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি জেলা হাসপাতালে ১০টি এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতে এবার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতেও কাজ করছে সরকার। দেশব্যাপী নার্স নিয়োগের কার্যক্রম চলছে এবং চিকিৎসক নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে হবে না। ব্যক্তি থেকে শুরু করে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক ব্যবহারের মতো ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে।
সেমিনারে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ফজিলা-তুন-নেসা মালিক বলেন, বিশ্বে প্রতিবছর দুই কোটির বেশি মানুষ কার্ডিওভাসকুলার রোগে মারা যান। এসব রোগের বড় একটি অংশ প্রতিরোধযোগ্য হওয়ায় চিকিৎসার পাশাপাশি ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর জনস্বাস্থ্য নীতি ও শক্তিশালী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। তিনি তামাক নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং লবণ গ্রহণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, হৃদরোগের ঝুঁকি শুরুতেই শনাক্ত করা দরকার। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগের প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ই-সিগারেট ও নতুন ধরনের নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তামাক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো ঝুঁকি কমাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর নীতি গ্রহণ করতে হবে।