রাজধানীর মিরপুরের সুপরিচিত চিকিৎসাকেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। জানা গেছে, তিনি ইতিমধ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নিকট নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

তবে সরকারের নেওয়া এই সাংগঠনিক পদক্ষেপকে চূড়ান্ত বা যথেষ্ট সমাধান বলে মনে করছেন না জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, রাতের আঁধারে একটি জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের মতো এমন গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া কোনোভাবেই যথেষ্ট হতে পারে না। নেপথ্যের কুশীলব ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষ এখন এর উপযুক্ত বিচার দেখতে চায়। একই সঙ্গে, লুণ্ঠিত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সরকারের নিজ দায়িত্বে দ্রুত টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ভারী সরঞ্জামের সাহায্যে পুরো স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি চলে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। এই ঘটনায় করা মামলায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নাম উঠে আসে, যারা স্থানীয়ভাবে এমপি ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও এই ঘটনায় এমপি মিষ্টির সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তাধীন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তদন্তে যার বিরুদ্ধেই অপরাধের প্রমাণ মিলবে, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।