চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার द्वিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০.৬ শতাংশ বেশি।
গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য, পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিনিয়োগ খাতের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যে এই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং চীন বর্তমানের বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি তাজা আম ও কাঁঠালের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন কৃষিপণ্য চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার পেয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে পেয়ারা ও সুগন্ধি চালের বাজার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। দুই দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও বাণিজ্য কাঠামোকে আরও গতিশীল করতে যৌথ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরে দূতাবাস জানায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে চীনা পুঞ্জীভূত বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়নের বেশি বিনিয়োগ করায় প্রায় ২০ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে ‘চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর সেখানে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই অঞ্চলে পোশাক, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, বায়োমেডিসিন এবং সবুজ শক্তির মতো খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অবকাঠামো খাতের সহযোগিতার বিষয়ে বলা হয়, চীনা প্রতিষ্ঠানের নির্মিত পদ্মা সেতু দেশের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। এই মেগা প্রকল্পটি দেশের বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধিতে ১.২৩ শতাংশ অবদান রাখার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখছে। এর পাশাপাশি কয়লাভিত্তিক, সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ খাতে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, মৈত্রী সেতুসহ নানা অবকাঠামো ও সংস্কার প্রকল্প চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও চীন চার মিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলারের অনুদান দিয়েছে। যার মধ্যে ডেঙ্গু ও কোভিড টেস্ট কিট, ওষুধ, ভেন্টিলেটর এবং বন্যা ত্রাণের মতো জরুরি সামগ্রী রয়েছে। এসকল উদ্যোগ দুই দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ও বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণ সুরক্ষায় বেইজিংয়ের ধারাবাহিক সহযোগিতারই বাস্তব প্রতিফলন।