রাজনৈতিক পরিচয়ের ধোঁয়াশা তুলে চাকরি বা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার নিয়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাজ বর্তমান সরকার করবে না।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বিভ্রান্তিকর স্ট্যাটাস ও বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি জনৈক ব্যক্তি প্রজ্ঞাপনে নাম না আসায় আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদধারী নেতা ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি বলে তিনি নিজে থেকেই ভুল ধারণা করে নিয়েছেন। অথচ পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং অন্যান্য দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে নির্দিষ্ট সময় লাগে। আগামী সোমবারের মধ্যেই বাকিদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির কথা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, পুলিশ ভেরিফিকেশন সব সরকারের আমলেই একটি নিয়মিত ও আইনগত প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকেই বাদ দেওয়া হচ্ছে না। তবে কারো বিরুদ্ধে যদি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ বা আদালতের সুনির্দিষ্ট দণ্ড থাকে, কেবল আইনি বিধান অনুযায়ী হাজারে দুই-একজন ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন। এছাড়া কেউ যদি ভেরিফিকেশন নিয়ে কোনো যৌক্তিক অভিযোগ জানাতে চান, তবে নির্ধারিত নিয়মে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কিছু মহল অসৎ উদ্দেশ্যে অপতথ্য ছড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।

নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সঙ্গে তার নিয়মিত কথা হচ্ছে। ছুটির দিন শনিবারেও এই দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবকিছু স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।