চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হলেও সেপ্টেম্বরে তা কিছুটা কমেছে। গত মাসে বাংলাদেশ থেকে ৩৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে দেশে ২৭৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। দুই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭১ কোটি ডলার। তবে রপ্তানি আয় দেশে আসতে কিছুটা সময় লাগে।
রপ্তানির শীর্ষ পাঁচ খাতের চারটিতে প্রবৃদ্ধি
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পাঁচ রপ্তানি খাতের মধ্যে চারটিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর মধ্যে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোমটেক্সটাইল উল্লেখযোগ্য। বিপরীতে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে।
সেপ্টেম্বরে ৩০৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ২৮৪ কোটি ডলারের তুলনায় ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ডলার, প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের হোমটেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি। তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে হয়েছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করছেন উদ্যোক্তারা। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও রপ্তানি প্রবাহ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, সামনে পোশাকশিল্পের ভরা মৌসুম হওয়ায় আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি আরও বাড়ার আশা রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স ২৭৭ কোটি ডলার
চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে প্রায় ২৮৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। আগস্টে তা বেড়ে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারে পৌঁছায়। তবে সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি ডলারে।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা এবং ডলারের আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে। সেপ্টেম্বরে কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও রিজার্ভ পুনর্গঠনে সহায়ক হচ্ছে।