দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে নিজেদের হারানো রাজত্ব ফিরে পাওয়ার মঞ্চ এবার নিজেদের ঘরেই। ২৩ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচানোর স্বপ্ন, গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের প্রত্যাশা আর লাল-সবুজের নতুন করে জেগে ওঠার গল্প - সবকিছুর শুরুটা হলো ভুটানকে হারিয়ে। আট বছর পর ঢাকায় ফিরেছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আর সেই মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়ে শিরোপার মিশনে শুভসূচনা বাংলাদেশের।
তবে জয়টা সহজে আসেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা বাংলাদেশের, কিন্তু ভুটানের রক্ষণ ভাঙতে বারবারই বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। এর মধ্যেই কোচ থমাস ডুলির এক সিদ্ধান্ত জন্ম দেয় আলোচনার। রাইট ব্যাক হিসেবে পরিচিত বিশ্বনাথ ঘোষকে খেলান সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে। কিন্তু নতুন ভূমিকায় গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
অবশেষে ৬৮ মিনিটে ভাঙে গোলের অপেক্ষা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই বাংলাদেশের হয়ে জালের দেখা পান ইব্রাহিম। তাঁর সেই গোলেই উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে লাল-সবুজের শিবির। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বদলি হিসেবে নেমে এমন গোল, ডুলির সিদ্ধান্তকেও এনে দেয় স্বস্তি। শেষ পর্যন্ত ইব্রাহিমের ওই একমাত্র গোলেই ভুটানকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয় শুধু টুর্নামেন্টে তিন পয়েন্ট পাওয়ার গল্প নয়, বরং ঘরের মাঠে নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ারও সুযোগ। দীর্ঘদিনের শিরোপা-খরা, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা আর সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ - সবকিছু নিয়েই এবার মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রথম পরীক্ষায় জয় মিললেও বিশ্বনাথের পজিশন পরিবর্তন এবং আক্রমণভাগের ফিনিশিং নিয়ে ভাবনার জায়গা থেকেই যাচ্ছে ডুলির।
এবার সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। কারণ সাফের শিরোপা জিততে হলে শুধু প্রথম ম্যাচের জয় নয়, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও জরুরি। ২০০৩ সালের পর আর শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি বাংলাদেশের। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন নিয়েই এগোতে চায় লাল-সবুজের দল। ভুটানের বিপক্ষে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু, এখন দেখার বিষয় - এই জয় দিয়ে শুরু কতদূর নিয়ে যায় বাংলাদেশকে।