একটা বরফে ঢাকা শহর, যেখানে অপরাধ প্রায় নেই বললেই চলে। সবাই শান্তিতে সুখী জীবনযাপন করেন, নেই কোনো কোলাহল, কোনো ঝঞ্ঝাট। এমনকি শহরের মেয়রের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কও বেশ ভালো। মেয়র সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন এমন কী ঘটল, যার পর সেই শহরের মানুষই সৃষ্টি করেন তুমুল উত্তেজনা, সকলেই বন্দুক হাতে নিজেদের নতুন শেরিফের পেছনে ছুটতে শুরু করেন।
শহরটির নাম ‘নরমাল’। বরফে ঢাকা মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট্ট এই শহরে জনসংখ্যা মাত্র ১ হাজার ৮৯০ জন। বাইরে থেকে দেখলে জায়গাটি যেন একেবারেই শান্ত ও নিরাপদ। আর এমন শহরেই নতুন শেরিফ হিসেবে দায়িত্ব নিতে আসেন উলিসিস রিচার্ডসন। স্ত্রীকে নিয়ে ব্যক্তিগত সমস্যার পাশাপাশি আগের কর্মস্থলের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার ভারও বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। তাই ছয় সপ্তাহের এই দায়িত্বে বড় কোনো ঝামেলায় জড়ানোর ইচ্ছা তাঁর একদমই নেই।
কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শহরের কিছু বিষয় তাঁর চোখে অস্বাভাবিক লাগতে শুরু করে। সাবেক শেরিফের রহস্যময় মৃত্যু, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অস্ত্র, অদ্ভুত কিছু স্থানীয় বাসিন্দা—সব মিলিয়ে শান্ত শহরটির আড়ালে যে অন্য এক বাস্তবতা লুকিয়ে আছে, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে।
এর মধ্যেই ঘটে একটি ব্যাংক ডাকাতি। আর এই ঘটনাই যেন খুলে দেয় শহরের গোপন দরজা। একে একে সামনে আসতে থাকে অস্ত্র, সহিংসতা, দুর্নীতি ও বহুদিনের লুকানো হিসাব। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, শহরের মানুষ, পুলিশ, এমনকি মেয়রও একসময় শেরিফ উলিসিসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যান। নিজেকে বাঁচাতে তখন উলিসিসকে নির্ভর করতে হয় কয়েকজন অদ্ভুত অপরাধীর ওপর। শান্ত-স্নিগ্ধ শহর মুহূর্তেই পরিণত হয় বিশৃঙ্খলা আর সংঘাতের মঞ্চে।
বব ওডেনকার্ক অভিনীত ‘নরমাল’ মূলত অ্যাকশন, ডার্ক কমেডি ও থ্রিলারের মিশেল। পরিচালক বেন হুইটলির এই ছবিতে ছোট শহরের জীবনের আড়ালে থাকা সামাজিক বিভাজন, অস্ত্রের প্রতি আসক্তি ও ‘আমরা বনাম তারা’ মানসিকতাকেও ব্যঙ্গ করা হয়েছে। আর ‘জন উইক’ ও ‘নোবডি’র সঙ্গে যুক্ত ডেরেক কোলস্টাডের কারণে ছবির অ্যাকশনেও পাওয়া যায় সেই পরিচিত অতিরঞ্জিত ও দ্রুতগতির ধাঁচ। সব মিলিয়ে, ‘নরমাল’ নামের শহরটি যতটা শান্ত মনে হয়, বাস্তবে ততটাই অস্বাভাবিক। আর সেই অস্বাভাবিকতার মধ্যেই শেরিফ উলিসিসের বেঁচে থাকার লড়াই হয়ে ওঠে ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।