সারাদিন কি ক্লান্তি, অবসাদ আর ঝিমুনি ভাব আপনাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে? সতেজ থাকতে কাজের ফাঁকে বারবার কফি কাপে চুমুক দিচ্ছেন? ভারতীয় পুষ্টিবিদ পূজা মালহোত্রা জানিয়েছেন, বারবার ক্যাফেইন না নিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে মাত্র এক চামচ কালো তিল যুক্ত করলেই শরীর পাবে কাঙ্ক্ষিত শক্তি। কীভাবে এই কালো তিল খাবেন এবং কারা সতর্ক থাকবেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
আমরা অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ শুরু করতে দিনের শুরুতেই কফি পান করি। কফি হয়তো সাময়িকভাবে ঘুম ঘুম ভাব দূর করতে পারে, তবে শরীরে আসল উপাদানের ঘাটতি থাকলে তা ক্যাফেইন দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। কফি প্রকৃতপক্ষে শরীরে প্রকৃত শক্তির জোগান দেয় না।
কালো তিল কীভাবে শরীরকে শক্তি দেয়? শরীরের কোষে মূল শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন আয়রন, কপার, ম্যাগনেশিয়াম ও বি ভিটামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। কালো তিলে প্রচুর পরিমাণে আয়রনের পাশাপাশি কপারও বিদ্যমান। আয়রনকে শরীরে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে কপারের ভূমিকা অপরিসীম। এ ছাড়া এতে থাকা ভিটামিন বি-১, ৩, ৬ এবং ম্যাগনেশিয়াম আমাদের পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গবেষণায় কী জানা গেছে? বিভিন্ন গবেষণায় কালো তিলের বহুবিধ স্বাস্থ্যকর দিকের কথা উঠে এসেছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কালো তিল গ্রহণের ফলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কিছু সূচক হ্রাস পায়। অন্য আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কালো তিলের গুঁড়া খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তনালির কার্যকারিতায় ইতিবাচক উন্নতি ঘটে। তা ছাড়া কালো তিলে সেসামিন ও সেসোমোলিনের মতো উপাদান রয়েছে, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
কীভাবে খাবেন কালো তিল? পুষ্টিবিদ পূজা মালহোত্রার মতে, কাঁচা তিলে কিছু উপাদান থাকে যা শরীরে খনিজ শোষণে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই কালো তিল হালকা ভেজে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। অল্প আঁচে ২-৩ মিনিট ভেজে নেওয়ার পর তা গুঁড়ো করে নেওয়া যেতে পারে। তিনি প্রতিদিন এক টেবিল চামচ বা ১০-১২ গ্রাম পরিমাণ ভেজে নেওয়া কালো তিল খাওয়ার পরামর্শ দেন।
সকালের রুটিনে এক চামচ কালো তিল যুক্ত করার ৩টি সহজ উপায়—
-
সকালের উষ্ণ পানীয়: এক চা-চামচ তাজা ভাজা ও গুঁড়ো করা কালো তিল হালকা গরম বাদামের দুধ বা সাধারণ দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যায়। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে এক চিমটি জায়ফল ও কাঁচা মধু যোগ করা যেতে পারে।
-
এনার্জি স্মুদি টপার: প্রতিদিনের গ্রিন স্মুদি, দইয়ের বাটি বা সকালের ওটস-পোরিজের ওপর ভাজা কালো তিল ছিটিয়ে দিলে খাবারের পুষ্টি যেমন বাড়ে, তেমনি বাদামের মতো চমৎকার স্বাদ ও মচমচে ভাব যুক্ত হয়।
-
ঐতিহ্যবাহী এনার্জি লাড্ডু: ভাজা কালো তিলের সঙ্গে থেঁতো করা খেজুর এবং সামান্য A2 ঘি মিশিয়ে ছোট ছোট বল বা লাড্ডু তৈরি করা যায়। দুপুরের ক্লান্তি দূর করতে চিনি ছাড়া এটি প্রাকৃতিক এনার্জি বল হিসেবে বেশ কার্যকরী।
কারা সতর্ক থাকবেন? কালো তিল বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য নিরাপদ হলেও এতে ক্যালরির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি এবং প্রাকৃতিক অক্সালেট রয়েছে। তাই যাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ইতিহাস রয়েছে কিংবা তিল বা বীজে তীব্র অ্যালার্জি আছে, তাদের নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে কালো তিল যুক্ত করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনডিটিভি