'বাঁশ খাওয়া' শুধু কথার কথা নয়, জীবনের নানা ঘটনাতেও মিলে যায়!

চায়ের আড্ডায় বন্ধুর মন খারাপ দেখে কারণ জানতে চাইতেই আকরাম হোসেন বললেন, 'কাছের মানুষ বাঁশ দিয়েছে।' শুনে বন্ধুরা অবাক হলেও এখানে আসলে গাছের বাঁশের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলা কথ্য ভাষায় ‘বাঁশ দেওয়া’ বলতে কাউকে ঠকানো, বিপদে ফেলা, ক্ষতি করা বা কোনো কাজে বাধা দেওয়াকে বোঝানো হয়। আর 'বাঁশ খাওয়া' মানে হলো কোনো ঘটনায় অপ্রত্যাশিতভাবে বিপদে পড়া, ঠকে যাওয়া বা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়া।

দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনাতেই এই 'বাঁশ' খাওয়ার উদাহরণ পাওয়া যায়। বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা, কাছের মানুষ হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া, ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষতির মুখে পড়া কিংবা অনলাইনে ছবি দেখে পণ্য কিনে হাতে পাওয়ার পর হতাশ হওয়া সবই কথার ছলে 'বাঁশ খাওয়া' হিসেবে বলা যায়। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া, গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করা বা কাউকে ধার দেওয়া টাকা ফেরত না পাওয়াও একই তালিকায় পড়ে।

আবার কাউকে বিশ্বাস করে ব্যক্তিগত কথা বলার পর তা অন্যের কাছে প্রকাশ হয়ে যাওয়া, কথা দিয়ে কথা না রাখা কিংবা ভালো উদ্দেশ্যে কাউকে সাহায্য করতে গিয়ে উল্টো নিজের বিপদ ডেকে আনা এসব ঘটনাও জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা। এসব ক্ষেত্রে 'বাঁশ দেওয়া' বা 'বাঁশ খাওয়া' শব্দ দুটি মজা, ব্যঙ্গ কিংবা আক্ষেপ প্রকাশে ব্যবহার করা হয়।

কথার 'বাঁশ' আর বাস্তবের বাঁশ এক নয়

মজার ব্যাপার হলো, কথ্য ভাষায় 'বাঁশ' শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হলেও বাস্তবের বাঁশ অত্যন্ত উপকারী একটি উদ্ভিদ। নির্মাণকাজ, আসবাব, হস্তশিল্প ও খাদ্যসহ নানা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে। পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাতেও বাঁশের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবছর ১৮ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব বাঁশ দিবস। ২০১০ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ব্যাম্বু অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের বার্তায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও টেকসই উন্নয়নে বাঁশকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, জীবনে মানুষ কথার 'বাঁশ' যতই খাক, প্রকৃতির বাঁশ কিন্তু মানুষের জন্য বেশ উপকারী। তাই আজ বিশ্ব বাঁশ দিবসে বলা যায় বাঁশ খাওয়ার গল্প অনেক, কিন্তু বাস্তবের বাঁশের উপকারও কম নয়!