উত্তরাঞ্চলে আগাম আমন কাটার ধুম, কৃষকের ঘরে উৎসব। উত্তরের মাঠজুড়ে এখন সোনালি আমনের হাসি। মৌসুমের আগেই পাকতে শুরু করা আগাম জাতের আমন ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক। কোথাও চলছে কাটা, কোথাও আবার মাড়াইয়ের প্রস্তুতি। নতুন ধান ঘরে তোলার আনন্দে কৃষকের মুখেও ফুটেছে স্বস্তির হাসি।

তবে এই আগাম ফসলের পেছনে আছে হিসাব-নিকাশের আরেক গল্প। কৃষকেরা বলছেন, ফলন মোটামুটি আগের মতো থাকলেও বেড়েছে উৎপাদন খরচ। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি দামে এবার বিঘাপ্রতি খরচ বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

তারপরও আগাম আমন চাষে আগ্রহের বড় কারণ সময়। সাধারণ আমন কাটার আগেই আগাম জাতের ধান ঘরে তুলে ফেলা যায়। এরপর একই জমিতে দ্রুত শুরু করা যায় শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ। ফলে একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল ঘরে তোলার সুযোগ তৈরি হয় কৃষকের।

রংপুরের মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক শফিয়ার রহমান এবার পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আমন করেছেন। তিন বিঘা থেকে ইতোমধ্যে পেয়েছেন ৪৭ মণ ধান, বাকি দুই বিঘার ধান কাটবেন এক সপ্তাহ পর। তার হিসাবে, বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ মণ, আর খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকা - যা গত বছরের তুলনায় দুই হাজার টাকা বেশি।

তবে ধান কাটার পর জমি পড়ে থাকছে না। শফিয়ার রহমান এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুলকপি, গাজর, বেগুন ও ধনেপাতার মতো শীতকালীন ফসল চাষের। লালমনিরহাটের কৃষক আদিলুর রহমানও ছয় বিঘা জমিতে আগাম আমন করেছেন। একই জমিতে দ্রুত পরবর্তী ফসল আবাদ করে বাড়তি আয় করার আশায় বাড়তি খরচের চাপও সামলাচ্ছেন তিনি।

কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে এবার আমন চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আমন রয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর। বন্যার প্রভাব তুলনামূলক কম থাকায় আগাম আমনের উৎপাদনও আশানুরূপ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে আগাম আমন কাটা চলবে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এরপর মাঠে নামবে শীতকালীন ফসলের নতুন আয়োজন। ভুট্টা, আলু থেকে শুরু করে নানা ধরনের শাক-সবজিতে আবারও সরগরম হবে উত্তরের মাঠ। অর্থাৎ এক ফসল ঘরে তুলেই পরের ফসলের স্বপ্ন বুনছেন কৃষক - সোনালি ধানের এই হাসির সঙ্গেই যেন জড়িয়ে আছে উত্তরের কৃষকের আগামী দিনের আশাও।