বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে এলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম সম্প্রতি কিছুটা কমেছে। তবে এই দর কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। কারণ, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

তিনি বলেন, এর আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পর আবার কয়েক দিনের মধ্যেই তা বেড়ে ১০৬-১০৭ ডলারে উঠেছিল। তাই বর্তমান দর কমার বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদি কি না, সেটি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

জাহেদ উর রহমান জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইউরোপকে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান কম দামকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল দর হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম পর্যায়ে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ কমে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারের ওপরও এর প্রভাব পড়ে।