নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে ফেনীতে পৌঁছান তিনি। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিয়ে ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার পর রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে ফেনীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর রওনা হয়। বেলা সোয়া একটার দিকে তাঁকে বহনকারী বাস ফেনীতে পৌঁছায়। পরে পরশুরাম উপজেলার ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছায় গাড়িবহর।
প্রধানমন্ত্রীর সেখানে পৌঁছানোর আগে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। দুপুর আড়াইটার দিকে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এরপর শুরু হয় সমাবেশের কার্যক্রম।
প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই পরশুরামের ঘাটঘর এলাকার দক্ষিণ কাউতলীতে মুহুরী নদীর পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় নারী-পুরুষ। সকাল ১০টার আগেই সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে যায়। অনেকে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে আশপাশের সড়ক ও নদীর পাড়ে অবস্থান নেন।
পূর্ব সাহেবনগর গ্রামের নুরজাহান বলেন, সকাল নয়টায় নাতিকে নিয়ে তিনি নদীর পাড়ে এসেছেন। সমাবেশস্থলে প্রবেশের সুযোগ না পেলেও প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার আশায় সেখানে অবস্থান করছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক আবদুল জলিল বলেন, মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভালোভাবে সংস্কার করা হলে প্রতিবছরের বন্যা থেকে এ এলাকার মানুষ অনেকটাই রক্ষা পাবে। প্রকল্পটির কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফুলগাজী প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নানা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের গ্রামের বাড়ি এ উপজেলায়।
সফরসূচি অনুযায়ী, পরশুরামের পর ফুলগাজীতেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বিকেল পাঁচটার দিকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। রাত নয়টার দিকে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।