ফেনী সফরে যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ফেনীর পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। পথে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এবং মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফুল নিয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতে মানুষ জড়ো হন।
সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় তাঁরা স্লোগান দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং বিভিন্ন স্থানে ফুল ছিটিয়ে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে পরশুরামের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাঁর গাড়িবহর ফেনীতে পৌঁছায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেনীতে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সফর। এক দিনের সফরে তিনি পরশুরাম ও ফুলগাজীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
সফরের শুরুতে পরশুরামের খেয়াঘাট-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এরপর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনগুলোতে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
পরে ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ফেনী জেলায় ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড এবং ফুলগাজীতে ৫১০ জন ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এছাড়া ফুলগাজীতে ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেওয়ার কথা রয়েছে।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে ফেনী ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।