গত দুই দশকে দেশে ব্যাপক উন্নয়নের কথা প্রচার করা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আজও চলাচলের রাস্তা, ব্রিজ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পানির তীব্র সংকট রয়েছে। তাই অতীতের তথাকথিত উন্নয়নের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই দেখতে পাচ্ছি রাস্তা নেই, ব্রিজ নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, বিশুদ্ধ পানি নেই। তাহলে আসল উন্নয়নটা হলো কোথায়?"
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই বিএনপির হাত ধরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের অর্থনীতি ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করেছিলেন। একইভাবে ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায় এবং ২০০১ সাল থেকেও সেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে আবারও দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, "আমরা গত সাত মাস ধরে সরকারের দায়িত্ব পালন করছি। আমরা সাধারণ মানুষকে জান্নাতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে টেকসই উন্নয়নের পূর্ণ গ্যারান্টি দিতে পারব। দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, বর্তমান সরকার তার সবই করবে।"
গাইবান্ধা জেলার বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে বিনা ভোটের নির্বাচন, রাতের ভোট এবং ডামি নির্বাচনের কারণে গাইবান্ধাবাসী তাদের প্রাপ্য উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই জেলাটি চরম অবহেলার শিকার। তবে বর্তমান সরকার গাইবান্ধার কৃষি উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তনে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ জোর দেওয়া হবে এবং ইতিমধ্যে দেশের ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোলার সিস্টেম চালুর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায়। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। তবে কোনো ধরনের অনিয়মের দায় সরকার নেবে না।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বালাসীঘাটে সেতু নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া ঋণের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অনেক ফারাক রয়েছে। সরকারের ওপর বিশাল ঋণের বোঝা রয়েছে এবং নিয়মিত ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার বালাসী ও সারিয়াকান্দিসহ গুরুত্বপূর্ণ চারটি সেতু নির্মাণের জন্য বৈদেশিক উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে। উদ্যোক্তা পাওয়া গেলে এগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও জেলার উন্নয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেন। এ সময় গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।