মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) প্রকাশিত ‘ডিফেন্স ডিভিডেন্ডস অব দ্য আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানি ১৩০ শতাংশ বেড়ে ৮৩০ কোটি ডলার থেকে ১,৯২০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরানের সাথে সংঘাত সত্ত্বেও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের শরিক দেশগুলোর (সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো) কাছে অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধিই ইসরায়েলের এই রেকর্ড আয়ের মূল কারণ।
বিশাল বাজার ও আরব আমিরাতের ভূমিকা আইআইএসএসের তথ্যমতে, ২০২০ সালে এই তিন দেশে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি শূন্য থাকলেও ২০২১ সালে তা মোট রপ্তানির ৭%, ২০২২ সালে ২৪%, ২০২৪ সালে ১২% এবং ২০২৫ সালে বেড়ে ১৫%-এ দাঁড়ায়। মূল্যের হিসাবে যা ২০২১ সালের ৭৯ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ২৮৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটি ইসরায়েল থেকে স্পাইডার-এমআর ও বারাক এলআরএডি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন (হার্মিস-৯০০), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা ও নজরদারি প্রযুক্তি সংগ্রহ করেছে। শুধু অস্ত্র কেনাবেচা নয়, ইউএইর রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ইডিজি’ সহ একাধিক কোম্পানি অন্তত ৮টি ইসরায়েলি সংস্থায় সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগে কাজ করছে।
মরক্কো, বাহরাইন ও নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ মরক্কোও ইসরায়েল থেকে বারাক এমএক্স প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ওফেক-১৩ স্যাটেলাইট ও কামান কিনেছে এবং রাবাতে ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। তবে অর্থায়ন ও দুর্বল স্থানীয় অবকাঠামোর কারণে বাহরাইনের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখনো সীমিত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গাজা যুদ্ধ নিয়ে তৈরি অস্বস্তি সত্ত্বেও ইরানকে ঘিরে তৈরি অভিন্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক গভীর করছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি আলাদা প্রতিরক্ষা বলয় স্পষ্ট হচ্ছে—একদিকে ইসরায়েল-আমিরাত-ভারত, অন্যদিকে সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান।