রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান এবং সাত সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে তারা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাদের শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইইউর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে এই অংশীদারত্ব বহুমাত্রিক হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগের কথা তুলে ধরেন।

বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অভিবাসন প্রসঙ্গে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব জোরদারের অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তারা। বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রমেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর মানবিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। রাষ্ট্রদূতরা এ বিষয়ে নিজেদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।

এ ছাড়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয় ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়েও মতবিনিময় হয়। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।

সাক্ষাতে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকও উপস্থিত ছিলেন।