সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াত ও রাত্রিযাপনে চলমান বিধিনিষেধে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পর্যটকদের ভ্রমণের সময়সীমা ও রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন গাইডলাইন চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি দ্বীপের বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে নতুন গাইডলাইন তৈরি করা হবে।
২০২৫ সালের পর্যটন মৌসুমে জারি করা ১২ দফা নির্দেশনায় নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হলেও দৈনিক সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের জন্য দ্বীপে ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ রাখার নিয়ম ছিল।
বর্তমানে এসব বিধিনিষেধের কারণে পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে দাবি করছেন দ্বীপের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, পর্যটননির্ভর অর্থনীতির ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটিতে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
কতদিন পর্যটকরা যেতে পারবেন?
দ্বীপের ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের কেউ কেউ অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম চালু রাখার দাবি করছেন। তাদের মতে, আগের মতো দীর্ঘ সময় পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ থাকলে স্থানীয় অর্থনীতি উপকৃত হবে।
তবে পরিবেশবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। পরিবেশবিদ মো. শামসুদ্দোহা মনে করেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটন কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। তার মতে, পর্যটন মৌসুম কোনোভাবেই তিন মাসের বেশি হওয়া উচিত নয়।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত পর্যটকরা যেতে পারবেন, কতজন রাত্রিযাপন করতে পারবেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চাহিদা এবং পরিবেশের সীমাবদ্ধতা—সব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে শুনানি ও বৈঠকের পর আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন গাইডলাইন দেওয়া হবে।
অর্থাৎ, সেন্টমার্টিনে পর্যটনের সময়সীমা বা রাত্রিযাপনের সুযোগ বাড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয়দের জীবন-জীবিকার মধ্যে সমন্বয় করেই নতুন নিয়ম নির্ধারণের কথা বলছে সরকার।