হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর প্রথম লাগেজ ১২ মিনিটের মধ্যে এবং সর্বশেষ লাগেজ সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীর হাতে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে লাগেজ সরবরাহে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামকে জরিমানা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল আংশিকভাবে উদ্বোধন করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি চালু হতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। নতুন টার্মিনাল চালু হলে পুরোনো বিমানবন্দরে যাত্রীদের যে ভোগান্তি রয়েছে, তা অনেকাংশে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে করা চুক্তিতে যাত্রীসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ থেকে যাত্রী নামানো ও ওঠানোর সময়ের পাশাপাশি লাগেজ সরবরাহের সময়ও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি জানান, প্রথম লাগেজ ১২ মিনিটের মধ্যে এবং সর্বশেষ লাগেজ ২৫ মিনিটের মধ্যে সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। এর বেশি সময় লাগলে সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামকে জরিমানা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতেই এসব শর্ত চুক্তিতে রাখা হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশের বিমান চলাচল খাত সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণাও অনেকাংশে কমবে বলে আশা করছেন তারা।
এদিকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধনের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি এয়ারলাইনস কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে এয়ার এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে এবং পেনাং থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
দেশের অন্যান্য গন্তব্যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।