আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকার পরও দীর্ঘ দুই বছর দুই মাস ধরে তথ্য কমিশন না থাকায় বাংলাদেশ একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে তথ্য অধিকার ফোরাম আয়োজিত তথ্য অধিকার সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার ২০২৬ উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এবং বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও তথ্য কমিশন গঠনের বিষয়ে বারবার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু দুই সরকারের সময়েই বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। তাঁর মতে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

তিনি দ্রুত একটি স্বাধীন ও কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, কমিশনে দলীয় বিবেচনা বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের পরিবর্তে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য প্রতিরোধের বিষয় যুক্ত করারও বিরোধিতা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং অপতথ্য দুটি আলাদা বিষয়; অপতথ্য ঠেকানোর অজুহাতে মানুষের তথ্য জানার অধিকার সীমিত করা উচিত নয়।

সম্মেলনে তথ্য অধিকার জরিপ ২০২৬-এর ফলাফল তুলে ধরেন প্রধান গবেষক অনন্য রায়হান। তিনি জানান, ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তথ্য অধিকার বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা ও তথ্য চেয়ে আবেদনের হার কিছুটা বেড়েছে। তবে আবেদন গ্রহণের স্বীকৃতি পাওয়ার হার ২০১৯ সালের ৭৫ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে।

জরিপে তথ্য পাওয়ার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, আইনগত সময়সীমা সম্পর্কে নাগরিকদের জ্ঞান এবং ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার হারও কমেছে বলে জানানো হয়। এসব ঘাটতি কাটাতে স্বাধীন তথ্য কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন গবেষক অনন্য রায়হান।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ভয় ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় অনেকেই তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করতে চান না। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এ কারণে তথ্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তথ্য কমিশনকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনামও দ্রুত স্বাধীন ও কার্যকর তথ্য কমিশন গঠনের দাবি জানান। ইইউ ডেলিগেশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি কামিলা পার্তিকা বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক শাসন নিশ্চিত করতে তথ্যের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নাগরিকের তথ্যের প্রয়োজন থাকলেও আইনটি সম্পর্কে জানেন তুলনামূলক কম মানুষ।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের টিম লিডার আদি ওয়াকার, তথ্য কমিশনের সচিব মো. শাহ আলম ও এনজিও-বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক কে এম মামুন উজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা।