ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ধার দেখিয়ে এবার দেশে ফিরছেন হাসান মাহমুদ। কাউন্টিতে পারফরম্যান্স যখন ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা, ঠিক তখনই থামছে তাঁর কেন্ট অধ্যায়। তবে এই বিদায়টা হতাশার হলেও, হাসানের জন্য কেন্টের দরজা যে ভবিষ্যতেও খোলা - সেটিই যেন কেন্টের বার্তাটাকে করেছে আরও আবেগঘন। কেন্টের জার্সিতে হাসানের শুরুটাই ছিল স্বপ্নের মতো। অভিষেকেই ছয় উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার, এরপর দুই ম্যাচেই ১২ উইকেট - প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কেন্টের হয়ে মাঠে নামা এই পেসার শুরুতেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ইংলিশ কন্ডিশনে নিজেকে মানিয়ে নিতে তাঁর খুব বেশি সময় লাগে না।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের মাঝেও এবার বাস্তবতার ডাক। টানা ক্রিকেটে হাসানের ওয়ার্কলোড বেড়ে গেছে অনেকটাই। কাউন্টির আগে খেলেছেন জিম্বাবুয়ে সিরিজ, এরপর এল-পি-এল, তারপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্ট সেখান থেকে আবার কাউন্টিতে ফিরেই করেছেন প্রচুর ওভার। তাই সামনে আরও ব্যস্ত সূচি থাকায় তাঁকে আগেভাগেই দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত বিসিবির। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে এশিয়ান গেমস, আফগানিস্তানের সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, পাশাপাশি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি। সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর - বাংলাদেশ ক্রিকেটে ব্যস্ততার যেন শেষ নেই। এমন ঠাসা সূচিতে হাসানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পেসারের শরীরকে বিশ্রাম দেওয়াটাই এখন বিসিবির কাছে অগ্রাধিকার।
আর তাই বিদায়ের মুহূর্তে কেন্টের আক্ষেপ থাকলেও, হাসানের জন্য তাদের বার্তা বেশ উষ্ণ - দরজা বন্ধ হচ্ছে না, বরং ভবিষ্যতে আবারও তাঁকে কেন্টের জার্সিতে দেখার অপেক্ষা থাকবে। চার ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে যে পেসার নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তাঁকে হারানোর হতাশা থাকাটাই স্বাভাবিক। কাউন্টির মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে হাসান এবার ফিরছেন দেশের ডাকে। সামনে ব্যস্ত সময়, একের পর এক লড়াই - আর সেই লড়াইয়ের জন্য সতেজ হাসানকে পেতেই বিসিবির এই সিদ্ধান্ত। কেন্টে থামল গল্পটা, তবে হয়তো শেষ হলো না - ভবিষ্যতে আবারও ইংল্যান্ডের মাটিতে হাসানের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় থাকবে কেন্ট।