আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সুস্থ ফুসফুসের গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘এ লাইফটাইম অব লাং হেলথ’।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ বিশ্বজুড়ে অকাল মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ। ধূমপান ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার ফুসফুসের ক্যানসার, সিওপিডি, যক্ষ্মা ও হাঁপানির মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, পরোক্ষ ধূমপানও ফুসফুসের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
২০২৩ সালে সিওপিডিতে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই বছরে হাঁপানিতে আক্রান্ত ছিলেন প্রায় ৩৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ এবং এ রোগে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার মানুষের। এ ছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ মানুষ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হন এবং মারা যান প্রায় ১২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ।
ফুসফুসের ক্যানসারও বিশ্বজুড়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠেছে। গ্লোবোক্যান-২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ওই বছরে প্রায় ২৬ লাখ মানুষের নতুন করে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হয় এবং এ রোগে প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
বাংলাদেশেও ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের প্রভাব উল্লেখযোগ্য। ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’ অনুযায়ী, দেশে মৃত্যুর শীর্ষ পাঁচটি কারণের মধ্যে দুটি ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ। বিশেষজ্ঞরা ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধূমপান ও তামাক বর্জন, বায়ুদূষণ কমানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাক ব্যবহারজনিত বিভিন্ন রোগে মারা যান। একই সঙ্গে ই-সিগারেট, ভেপিং, হিটেড টোব্যাকো ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার তরুণদের মধ্যে বাড়ছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষায় এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।