ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার মুম্বাই থেকে আসা তাঁদের উড়োজাহাজটি দিল্লিতে অবতরণের পর বিমানের ভেতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল সিজেপি। পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না দিলেও নির্ধারিত সময়েই বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। এতে অংশ নিতেই মুম্বাই থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন দলটির তিন নেতা।

দিল্লির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই পুলিশ সদস্যরা বিমানে উঠে তাঁদের আটক করেন। এ সময় অভিজিৎ দীপকে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করেন। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে সিজেপি নেতাদের তর্ক করতে দেখা যায়। দীপকে বলেন, তাঁরা ভয় পান না এবং পুলিশ চাইলে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারে।

নেতাদের আটকের পর এক বিবৃতিতে সিজেপি এ ঘটনাকে ‘স্বৈরাচারী কায়দায় আটক’ বলে উল্লেখ করেছে। দলটির অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নেতৃত্ব যেন কর্মসূচিস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে আটক নেতাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে দলটি।

এর আগে সকালে ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠি এবং সিজেপির আইনি শাখার প্রধান রত্না সিংহকেও তাঁদের বাসা থেকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দিল্লি ও আশপাশের এলাকা থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির ৪৫টি মেট্রোস্টেশন বন্ধ, আড়াই শতাধিক ট্রেন বাতিল এবং সড়কে চলাচলকারী যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশি চালানোর তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।